মো. ফারুক, পেকুয়া;
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকা কেরুণছড়িতে বন্যা ও টানা বর্ষণে সবচেয়ে অসহায় পরিবারগুলোর একটি এখন ৬৫ বছর বয়সী লিয়াকত আলীর পরিবার। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তিনি।
জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন লিয়াকত আলী। প্রবাসে থাকার কারণে অনেক দেরিতে বিয়ে করায় বর্তমানে তার এক ছেলে ও তিন মেয়ে এখনো অপ্রাপ্তবয়স্ক। সংসারের দায়িত্ব বাড়লেও বয়সের ভারে আগের মতো কাজ করার সক্ষমতা হারিয়েছেন তিনি। বর্তমানে দিনমজুরির কাজ করেই কোনোমতে পরিবারের ভরণপোষণ চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বন্যা ও দুর্যোগ তার সেই সামান্য আয়ের পথটুকুও বন্ধ করে দিয়েছে।
স্ত্রী আরফা বেগম ও চার সন্তানকে নিয়ে কেরুণছড়ির পাহাড়ি এলাকায় দুই কক্ষের একটি ঘরে বসবাস করতেন লিয়াকত আলী। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে তাদের বসতঘরের চারপাশের দেয়াল ধসে পড়ে। এতে ঘরটি বসবাসের অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
লিয়াকত আলী বলেন, “আমার কামাই করার মতো তেমন সুযোগ নাই। বয়স হয়ে গেছে, নিয়মিত কাজও করতে পারি না। যা ছিল, তাও এই বন্যায় শেষ হয়ে গেছে। ঘরের চারপাশের দেয়াল ভেঙে পড়েছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না।”
তার স্ত্রী আরফা বেগম বলেন, “আমাদের ঘরের চারপাশের দেয়াল ভেঙে গেছে। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে। আমার স্বামী বয়সের কারণে আগের মতো কাজ করতে পারেন না। এলাকায় কাজের সুযোগও কম। এখন সংসার চালানো অনেক কঠিন হয়ে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “ত্রাণ হিসেবে আমরা একমুঠো খিচুড়ি এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কিছু ত্রাণসামগ্রী পেয়েছি। তবে পরিবার নিয়ে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য ঘর মেরামত এবং নিয়মিত সহায়তা খুবই প্রয়োজন।”
স্থানীয়দের মতে, লিয়াকত আলীর পরিবার বর্তমানে টৈটং ইউনিয়নের সবচেয়ে অসহায় পরিবারগুলোর একটি। দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত উপার্জনে গড়ে তোলা বসতভিটাটিই ছিল তাদের শেষ সম্বল। দুর্যোগে সেই আশ্রয়ও এখন ধ্বংসের মুখে।
শুধু লিয়াকত আলীর পরিবারই নয়, টৈটং ইউনিয়নের পাহাড়ি জনপদের আরও বেশ কয়েকটি পরিবার একইভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেকের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে গেছে এবং খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার এসব পরিবার এখন সরকারি সহায়তা এবং সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতার অপেক্ষায় রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, বসতঘর মেরামতের ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করা না গেলে টৈটংয়ের পাহাড়ি এলাকার অসহায় মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
